শৈশবে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কঠোর শাসন ও তীব্র বকাঝকার ফলে কথকের মনে তাঁর প্রতি ভয় ও ক্ষোভ জন্মায়। সেই ক্ষোভ থেকেই পরে একটি পত্রিকায় লেখা বাল্যস্মৃতিতে তিনি মাস্টারমশাইকে কঠোর ও ব্যর্থ শিক্ষক হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু বহুদিন পরে বাংলাদেশের এক প্রান্তবর্তী কলেজে বক্তৃতা দিতে গিয়ে কথক যখন সেই মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে পুনরায় সাক্ষাৎ করেন, তখন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে যায়। মাস্টারমশাই শুধু বক্তৃতার প্রশংসাই করেন না, বরং সেই জীর্ণ পত্রিকাটি বের করে গর্বের সঙ্গে বলেন—ছাত্র তাঁকে অমর করে দিয়েছে। এই উদারতা, ক্ষমাশীলতা ও স্নেহ কথকের মনে তীব্র লজ্জাবোধ ও আত্মগ্লানির জন্ম দেয়। মাস্টারমশাইয়ের মহান হৃদয়ের সামনে নত হয়ে কথক নিজের ভুল উপলব্ধি করেন। এই অনুশোচনা ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই কথকের আত্মশুদ্ধি ঘটে।