Posts

Showing posts with the label ইলিয়াস

"আর সে কথা যে আমরা আপনাদের বললাম তা ফুর্তির জন্য নয়, আপনাদের কল্যাণের জন্য।"-বক্তা কে? বক্তা কখন এ কথা বলেছে? তার এ কথা বলার কারণ কী?

বক্তার পরিচয় (১): লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন ইলিয়াস নিজে। বক্তব্যের সময় (২): ইলিয়াস এই কথাটি বলেন তখন, যখন তিনি ও তাঁর স্ত্রী নিঃস্ব অবস্থায় মহম্মদ শা-র বাড়িতে কাজ করছিলেন এবং সেখানে উপস্থিত অতিথিরা তাঁদের আগের ধনী জীবনের সঙ্গে বর্তমান দারিদ্র্যপূর্ণ জীবনের তুলনা নিয়ে বিস্ময় ও হাসি প্রকাশ করছিলেন। বক্তব্যের কারণ (২): ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি অতিথিদের জানান যে ধনী জীবনে নয়, বরং বর্তমানের নিঃস্ব জীবনেই তাঁরা প্রকৃত সুখ পেয়েছেন। অতিথিরা এই কথা বিশ্বাস না করে হাসলে ইলিয়াস তাদের বোঝাতে চান যে তিনি মজা করে নয়, সকলের কল্যাণের জন্যই এই সত্য বলছেন। তাঁর মতে, বিষয়-সম্পত্তি মানুষকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে, কিন্তু ত্যাগ ও সরল জীবনই প্রকৃত সুখ ও মানবকল্যাণের পথ। এই জীবনসত্যই সকলকে উপলব্ধি করানোর জন্য তিনি উক্ত মন্তব্যটি করেন।

“সুখী জীবন কাকে বলে কোনোদিন বুঝিনি।” — বক্তা কে? এই প্রসঙ্গে সে কী বলেছে?

বক্তার পরিচয় (১): উক্তিটি লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পের চরিত্র ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি-র। বক্তার বক্তব্য / প্রসঙ্গ (৪): এই উক্তির মাধ্যমে শাম-শেমাগি তার অতীত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছে। সে জানায় যে বিপুল ধনসম্পদ ও অগণিত পশুর মালিক হয়েও ইলিয়াস দম্পতির জীবনে প্রকৃত সুখ ছিল না। সারাক্ষণ সম্পত্তি রক্ষা, পশুর দেখভাল, চোর ও হিংস্র জন্তুর ভয়, শীতের রসদ জোগাড়—এই সব দুশ্চিন্তায় তাদের দিন কেটে যেত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অন্তরের কথা বলার সময় ছিল না, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার অবকাশও মিলত না। ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ও মতবিরোধের কারণে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হত। এই অবিরাম মানসিক চাপ, অশান্তি ও পাপবোধের ফলে তারা মানসিক শান্তি লাভ করতে পারেনি। এই কারণেই শাম-শেমাগি উপলব্ধি করে বলে—অর্থ ও সম্পত্তি থাকলেই সুখী জীবন হয় না, আর তাই সে বলে, “সুখী জীবন কাকে বলে কোনোদিন বুঝিনি।”

"ভাগ্য যেন চাকার মতো ঘোরে"—কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে? বক্তার এমন বক্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করো।১+৪

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি (১): উক্তিটি লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে মহম্মদ শা–র বাড়িতে আগত এক অতিথি মহম্মদ শা–কে উদ্দেশ্য করে বললেও, আসলে মন্তব্যটির প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ইলিয়াস। বক্তার এমন বক্তব্যের কারণ (৪): ইলিয়াসের জীবনের উত্থান-পতনের চরম পরিবর্তনই এই মন্তব্যের মূল কারণ। দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের কঠোর পরিশ্রমে ইলিয়াস বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়। তার ছিল দুশো ঘোড়া, দেড়শো গোরু, বারোশো ভেড়া ও বহু মহিষ। চারদিকে তার ধনসম্পত্তি ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। দূরদূরান্ত থেকে অতিথিরা তার বাড়িতে আসত এবং ইলিয়াস উদারভাবে অতিথিসেবা করত। প্রতিবেশীরাও তাকে ঈর্ষা করতে শুরু করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার জীবনে ভয়াবহ পরিবর্তন আসে। ঘোড়া চুরি, দুর্ভিক্ষ, মড়ক, পশুমৃত্যু এবং নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার সম্পদ ক্রমশ নষ্ট হয়ে যায়। ছেলের সঙ্গে বিবাদের ফলে পরিবারেও ভাঙন ধরে। একসময় নিজের পশমের কোট, কম্বল এবং অবশিষ্ট গৃহপালিত পশুগুলিও বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয় সে। শেষ পর্যন্ত ইলিয়াস ও তার স্ত্রী সর্বহারা হয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবনধারণ করতে শুরু করে। এই চরম ভাগ্যপরিবর্তনের প্রেক্ষিতেই মহম্মদ শা–র বাড়িতে আগত অতিথিরা ইলিয়াসের জীবনের উত্...

“ইলিয়াসের অতিথি-বৎসলতার কথা স্মরণ করে তার খুব দুঃখ হলো।”—কার কথা বলা হয়েছে? সে কী করেছিল? ইলিয়াসের জীবনে তার কী প্রভাব পড়েছিল?১+২+২

উদ্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় (১): লিও তলস্তয়ের লেখা ‘ইলিয়াস’ গল্পে উল্লিখিত অংশে ইলিয়াসের প্রতিবেশী মহম্মদ শা-র কথাই বলা হয়েছে। সে কী করেছিল (২): মহম্মদ শা ইলিয়াসের অতিথি-বৎসলতার কথা স্মরণ করে তার দুরবস্থায় গভীর দুঃখ অনুভব করে। সে ইলিয়াস ও তার স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। বিনিময়ে ইলিয়াস গ্রীষ্মকালে তরমুজখেতে কাজ করত এবং শীতকালে গোরু-ঘোড়াদের দেখাশোনা করত। ইলিয়াসের স্ত্রী ঘোটকীগুলোর দুধ দোহন করে কুমিস তৈরি করত। মহম্মদ শা তাদের দুজনেরই খাওয়াপরার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয় এবং প্রয়োজন হলে আরও সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইলিয়াসের জীবনে তার প্রভাব (২): মহম্মদ শা-র উদারতায় ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর জীবন নতুনভাবে বদলে যায়। শুরুতে কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে তারা পরিশ্রমের মধ্যেই শান্তি খুঁজে পায়। এই জীবনে তারা উপলব্ধি করে যে, সুখের আসল ভিত্তি ধন-সম্পদ নয়, বরং পরিশ্রম, পরিতৃপ্তি ও মানসিক শান্তি। দুশ্চিন্তামুক্ত এই সরল জীবনেই তারা প্রকৃত সুখের স্বাদ পায়।

“ইলিয়াস তো ভাগ্যবান পুরুষ;”— কারা, কেন ইলিয়াসকে ভাগ্যবান পুরুষ বলতে চায়? এই উক্তি তুমি সমর্থন কর কি না যুক্তি-সহ লেখো।৩ + ২

ইলিয়াসকে ‘ভাগ্যবান পুরুষ’ বলার কারণ (৩) লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে ইলিয়াসের আশেপাশের লোকজন—বিশেষ করে তার প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা—তাকে ‘ভাগ্যবান পুরুষ’ বলে মন্তব্য করেছিল। বিয়ের কিছুদিন পর তার পিতা মারা গেলে ইলিয়াস খুব বেশি ধনীও ছিল না, আবার দরিদ্রও ছিল না। তখন তার সম্পত্তি বলতে ছিল মাত্র সাতটি ঘোড়া, দুটি গোরু এবং কুড়িটি ভেড়া। কিন্তু ইলিয়াসের সুশৃঙ্খল পরিচালনা, কঠোর পরিশ্রম ও তার স্ত্রীর সহযোগিতায় প্রতি বছর তার সম্পত্তি বাড়তে থাকে। দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সে দুশো ঘোড়া, দেড়শো গোরু-মহিষ ও বারোশো ভেড়ার মালিক হয়। ভাড়াটে মজুর ও মজুরানিরা তার পশুপালনের কাজ করত এবং দুধ, কুমিস, মাখন ও পনির তৈরি করত। এই বিপুল সাফল্য ও সুখ-সমৃদ্ধি দেখে আশেপাশের লোকেরা হিংসায় তাকে ‘ভাগ্যবান পুরুষ’ বলে মন্তব্য করেছিল। উক্তিটির প্রতি আমার মত (২) আমি এই উক্তির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নই। ইলিয়াসের সাফল্য ভাগ্যের জোরে নয়, বরং তার কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও দৃঢ় মানসিকতার ফল। সে নিজের শ্রম ও বুদ্ধির সাহায্যে ধীরে ধীরে উন্নতি করেছে। তাই ইলিয়াসকে শুধু ভাগ্যবান বলা হলে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমকে ছোট করে দেখা হয়। ইলি...

"বৃদ্ধ দম্পতিকে সাহায্য করবার তখন কেউ নেই"-'বৃদ্ধ দম্পতি' বলতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে? তাদের কোন্ পরিস্থিতিতে সাহায্য করার কেউ ছিল না? ১+৪

‘বৃদ্ধ দম্পতি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে (১): লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পে ‘বৃদ্ধ দম্পতি’ বলতে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগিকে বোঝানো হয়েছে। কোন্ পরিস্থিতিতে তাদের সাহায্য করার কেউ ছিল না (৪): দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম ও সুব্যবস্থাপনার ফলে ইলিয়াস একসময় বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠে। তার দুশো ঘোড়া, দেড়শো গোরু-মোষ, বারোশো ভেড়া ও অসংখ্য মজুর ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার দুর্ভাগ্য শুরু হয়। প্রথমে বড়ো ছেলে এক মারামারির ঘটনায় মারা যায়। ছোটো ছেলে ও তার ঝগড়াটে স্ত্রী ইলিয়াসকে অবজ্ঞা করতে শুরু করলে ইলিয়াস তাদের বাড়ি ও কিছু পশু দিয়ে আলাদা করে দেয়। এরপর মড়কে ভেড়া মারা যায়, দুর্ভিক্ষে খড়ের অভাবে গোরু-মোষ মারা পড়ে এবং কিরবিজরা তার ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করে নেয়। সত্তর বছর বয়সে ইলিয়াস বাধ্য হয়ে নিজের পশমের কোট, কম্বল, তাঁবু, ঘোড়ার জিন ও অবশিষ্ট পশুগুলি বিক্রি করে দেয়। সেই সময় তার বিতাড়িত পুত্র দূরদেশে ছিল এবং একমাত্র কন্যাও মারা গিয়েছিল। ফলে সর্বস্বান্ত ও চরম অসহায় হয়ে পড়া এই বৃদ্ধ দম্পতিকে সাহায্য করার মতো তখন নিজের কেউ ছিল না।

"কিন্তু ওর মধ্যে বিশেষ করে দেখবার কিছু আছে নাকি?"—কে, কার কথা বলেছে? তাকে কী উত্তর দেওয়া হয়েছিল? এতে বক্তার প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল?১+২+২

বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি (১): লিও তলস্তয়ের রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পে উক্ত কথাটি বলেছেন মহম্মদ শা-র বাড়িতে আগত একজন অতিথি। তিনি দরজার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া বুড়ো মানুষটির—অর্থাৎ ইলিয়াসের—কথা বলেছেন। প্রত্যুত্তর (২): এই প্রশ্নের উত্তরে মহম্মদ শা জানান যে, ওই বুড়ো মানুষটির নাম ইলিয়াস। একসময় সে ঐ অঞ্চলের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিল এবং তার নাম বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তার কিছুই নেই। সে ও তার স্ত্রী এখন মহম্মদ শা-র বাড়িতে মজুরের মতো কাজ করে জীবনযাপন করছে। বক্তার প্রতিক্রিয়া (২): ইলিয়াসের এই দুরবস্থার কথা শুনে অতিথি বিস্মিত হন। তিনি বলেন যে ভাগ্য চাকার মতো ঘোরে—কখনও মানুষ উপরে ওঠে, আবার কখনও নিচে নেমে যায়। এরপর তিনি ইলিয়াস এখন দুঃখী কি না তা জানতে চান এবং তার সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। জীবন সম্পর্কে কিছু জানার আগ্রহও তিনি প্রকাশ করেন।