Posts

Showing posts with the label নব নব সৃষ্টি

লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী একবার বলেছেন আরবি, ফারসি ভাষা থেকে "ব্যাপকভাবে আর নুতন শব্দ বাংলাতে ঢুকবে না", আবার একবার বলেছেন "অচলিত অনেক কারণ বুঝিয়ে দাও। আরবি-ফার্সি শব্দ নূতন মেয়াদ পাবে।"-এই দুই উক্তিরঅথবা, বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহার সম্পর্কে 'নব নব সষ্টি' প্রবন্ধ অবলম্বনে আলোচনা করো

  উক্তির কারণপ্রথম “আরবি, ফারসি ভাষা থেকে ব্যাপকভাবে আর নতুন শব্দ বাংলাতে ঢুকবে না।” এই উক্তির পেছনে লেখকের যুক্তি হলো—ভাষায় বিদেশি শব্দের প্রবেশ নির্ভর করে সেই ভাষার সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানচর্চার যোগাযোগের উপর। একসময় আরবি ও ফারসি ভাষার সঙ্গে বাঙালির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল—ধর্ম, শাসনব্যবস্থা, সাহিত্য ও শিক্ষার মাধ্যমে। ফলে বিপুল পরিমাণ আরবি–ফারসি শব্দ বাংলায় প্রবেশ করেছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে তরুণ সমাজের মধ্যে আরবি ও ফারসি ভাষা শেখার আগ্রহ ক্রমশ কমে গেছে। পাশাপাশি আরব–ইরান অঞ্চলে আধুনিক বিজ্ঞান ও জ্ঞানচর্চায় নতুন শব্দ সৃষ্টির যে প্রভাব একসময় ছিল, তা আগের মতো শক্তিশালী নয়। তাই এই ভাষা দুটি থেকে নতুন শব্দ ব্যাপকভাবে বাংলায় ঢোকার সম্ভাবনা ক্ষীণ—এই কথাই লেখক প্রথম উক্তিতে বোঝাতে চেয়েছেন। দ্বিতীয় উক্তির কারণ “অচলিত অনেক আরবি–ফারসি শব্দ নতুন মেয়াদ পাবে।” অন্যদিকে লেখক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে বাংলা ভাষায় আগে থেকে প্রবেশ করা আরবি–ফারসি শব্দ কখনোই অচল হয়ে যাবে না। বাংলা সাহিত্য ও ভাষার ইতিহাসে এই শব্দগুলির শিকড় গভীর। মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল থেকে শুরু করে হুতোম প্যাঁচার নকশা পর্যন্ত বহু গ্...

"বিদেশি শব্দ নেওয়া ভালো না মন্দ সে প্রশ্ন অবান্তর।"-মন্তব্যটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে লেখক বলেছেন— বিদেশি শব্দ গ্রহণ করা ভালো না মন্দ—এই প্রশ্নটাই অবান্তর। এই মন্তব্যের তাৎপর্য হলো, ভাষা কোনো স্থবির বস্তু নয়; ভাষা একটি জীবন্ত ও পরিবর্তনশীল মাধ্যম। কোনো ভাষা যদি নিজের শব্দভান্ডার থেকে নতুন শব্দ সৃষ্টি করতে পারে, তবে তার স্বয়ংসম্পূর্ণতা প্রমাণিত হয়। কিন্তু তাই বলে বিদেশি শব্দ গ্রহণ করলেই ভাষার ক্ষতি হয়—এমন ধারণা ভুল। বিষয়বস্তুর প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি শব্দ গ্রহণ করলে ভাষা আরও সমৃদ্ধ, অর্থবহ ও প্রকাশক্ষম হয়ে ওঠে। লেখক নিজেই বলেছেন— “রচনার ভাষা তার বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে।” প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা ভাষায় সংস্কৃত, আরবি, ফারসি প্রভৃতি ভাষার শব্দ স্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে। আধুনিক যুগে ইংরেজি ভাষার প্রভাবেও বাংলা ভাষায় বহু ইউরোপীয় শব্দ প্রবেশ করেছে। যেমন—আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা যেভাবে বিদেশি দ্রব্য ব্যবহার করি, তেমনি বিদেশি শব্দও ভাষায় প্রবেশ করাই স্বাভাবিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম—উভয়েই তাঁদের রচনায় অনায়াসে বিদেশি শব্দ ব্যবহার করেছেন। নজরুলের ‘ইনকিলাব’, ‘শহিদ’ কিংবা রবীন্দ্রনাথের আ...

"প্রাচীন যুগের সব ভাষাই তাই”।-কোন্ কোন্ ভাষার উল্লেখ করে লেখক কেন এরূপ বলেছেন? এ প্রসঙ্গে বর্তমান যুগের কোন্ দুটি ভাষা সম্পর্কে তিনি কী বলেছেন? ৩+২

কোন্ কোন্ ভাষার উল্লেখ করে লেখক এ কথা বলেছেন (৩): সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে লেখক সংস্কৃত, হিব্রু, গ্রিক, আবেস্তা এবং আংশিকভাবে প্রাচীন আরবি ভাষার উল্লেখ করেছেন। লেখকের মতে প্রাচীন যুগের ভাষাগুলি নতুন ভাব বা নতুন বস্তুকে প্রকাশ করার জন্য নিজেদের ভাষার ধাতু ও শব্দভাণ্ডার থেকেই নতুন শব্দ সৃষ্টি করত। তারা অন্য ভাষা থেকে খুব কম শব্দ গ্রহণ করত। এই আত্মনির্ভরশীলতার কারণেই লেখক বলেছেন— “প্রাচীন যুগের সব ভাষাই তাই”। বর্তমান যুগের দুটি ভাষা সম্পর্কে লেখকের মত (২): বর্তমান যুগের ভাষা হিসেবে লেখক ইংরেজি ও বাংলা ভাষার কথা বলেছেন। লেখকের মতে এই ভাষাগুলি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, কারণ তারা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ভাষা থেকে প্রচুর শব্দ গ্রহণ করেছে। পাঠান-মোগল যুগে বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দ প্রবেশ করেছে এবং পরে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা থেকেও বহু শব্দ গ্রহণ করেছে। একইভাবে ইংরেজি ভাষাও বিভিন্ন ভাষা থেকে শব্দ নিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছে।