Posts

Showing posts with the label Class ix

'হিমালয় দর্শন' রচনাংশটিতে পার্বত্যজাতি সম্পর্কে লেখিকার কীরূপ মনোভাব ফুটে উঠেছে?

লেখিকার মনোভাব : বেগম রোকেয়া তাঁর ‘হিমালয় দর্শন’ রচনাংশে পার্বত্যজাতি সম্পর্কে গভীর শ্রদ্ধা, সহানুভূতি ও বাস্তববোধসম্পন্ন মনোভাব প্রকাশ করেছেন। প্রথমত, নারীসমাজের প্রতি শ্রদ্ধা—লেখিকা পাহাড়ি নারীদের দুর্বল বা অবলা বলে মনে করেননি। বরং তাঁদের শ্রমশীলতা, সাহস, সত্যবাদিতা ও আত্মনির্ভরশীলতাকে বিশেষভাবে মর্যাদা দিয়েছেন। পাহাড়ি নারীরা পুরুষের ওপর নির্ভরশীল নয়—এই স্বাধীনচেতা মনোভাব লেখিকাকে মুগ্ধ করেছে। দ্বিতীয়ত, কষ্টসহিষু ও পরিশ্রমী মানুষের প্রতি সহানুভূতি—দুর্গম পার্বত্যপথে ভারী বোঝা বহন করেও পাহাড়ি নারীদের নিরলস পরিশ্রম লেখিকার মনে গভীর সহানুভূতির জন্ম দিয়েছে। সমতলবাসীর কাছে যা দুঃসাহসিক, পাহাড়বাসীদের কাছে তা নিত্যদিনের বাস্তবতা। তৃতীয়ত, সমকালীন পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ—লেখিকা মনে করেছেন, সমতলবাসীদের সংস্পর্শে এসে পার্বত্যজাতির মানুষ, বিশেষত নারীরা তাঁদের স্বাভাবিক সরলতা ও সদ্‌গুণ কিছুটা হারাচ্ছে। এই পরিবর্তন তাঁকে ব্যথিত করেছে। সারকথা, পার্বত্যজাতির প্রতি লেখিকার মনোভাব একদিকে শ্রদ্ধাশীল ও মানবিক, অন্যদিকে সচেতন ও সমালোচনামুখর।

ইহারা উদরান্নের জন্য পুরুষদের প্রত্যাশী নহে;"-'ইহারা' কারা? উদরান্নের জন্য পুরুষদের প্রত্যাশী না হওয়ার কারণ হিসেবে লেখিকা কোন্ দিকটির প্রতি আলোকপাত করেছেন?

‘ইহারা’-দের পরিচয় (১): বেগম রোকেয়ার ‘হিমালয় দর্শন’ রচনার উল্লিখিত অংশে ‘ইহারা’ বলতে পাহাড়ি অঞ্চলের ভুটিয়া রমণীদের কথা বলা হয়েছে। উদরান্নের জন্য পুরুষদের প্রত্যাশী না হওয়ার কারণ / তাঁদের জীবনযাত্রার স্বরূপ (৪): বেগম রোকেয়া কার্সিয়াং ভ্রমণের সময় পাহাড়ি ভুটিয়া নারীদের কঠোর ও সংগ্রামী জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করেন। তিনি লক্ষ করেন, এই নারীরা অসম্ভব পরিশ্রমী ও সাহসী। এবড়োখেবড়ো পাহাড়ি পথে তারা দু-এক মন ভারী বোঝা কাঁধে নিয়ে অনায়াসে ওঠানামা করে, যা সমতলের পুরুষদের পক্ষেও কল্পনাতীত। তাঁরা সংসারের উপার্জনে পুরুষদের সঙ্গে সমানভাবে অংশগ্রহণ করে এবং নিজেরাই জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম। তাই উদরান্নের জন্য তাদের পুরুষদের ওপর নির্ভর করতে হয় না। এই কর্মক্ষমতা ও স্বাবলম্বিতাই লেখিকার চোখে ‘নারী অবলা’ ধারণাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করে। বরং এই পাহাড়ি নারীদের তুলনায় তথাকথিত সবল পুরুষেরা যেন ‘বালক-বালিকার দলভুক্ত’ বলে মনে হয়। এইভাবে লেখিকা ভুটিয়া নারীদের পরিশ্রমী, সাহসী, স্বাবলম্বী ও স্বাধীনচেতা জীবনযাত্রাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

"সকলই মনোহর।”-হিমালয় দর্শন' প্রবন্ধ অনুসারে মনোহর দৃশ্যের পরিচয় দাও।

বেগম রোকেয়ার ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধে ‘সকলই মনোহর’ বলতে হিমালয়ের পাহাড়ি পথে যাত্রাকালে লেখিকার চোখে ধরা পড়া সমগ্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেই বোঝানো হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে হিমালয়ান রেলগাড়িতে যাত্রা শুরু হলে খেলনা গাড়ির মতো ছোট ট্রেনটি পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে এগোতে থাকে। ট্রেনের দু’পাশে কোথাও সুউচ্চ পাহাড়চূড়া, কোথাও ঘন অরণ্য, আবার কোথাও মেঘে ঢাকা উপত্যকা চোখে পড়ে। নীচের উপত্যকায় ছড়িয়ে থাকা সাদা কুয়াশাকে লেখিকার নদী বলে মনে হয়। সবুজ চা-বাগান প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। পাহাড়ি সংকীর্ণ পথগুলি তাঁকে ধরণীর সিঁথির মতো মনে হয়, আর ঘন সবুজ বনকে তিনি ধরণীর কেশরাশির সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই পাহাড়, মেঘ, অরণ্য, উপত্যকা ও সবুজ প্রকৃতির মিলিত রূপই লেখিকার কাছে এতটাই আকর্ষণীয় যে তিনি একে ‘সকলই মনোহর’ বলে অভিহিত করেছেন।

লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী একবার বলেছেন আরবি, ফারসি ভাষা থেকে "ব্যাপকভাবে আর নুতন শব্দ বাংলাতে ঢুকবে না", আবার একবার বলেছেন "অচলিত অনেক কারণ বুঝিয়ে দাও। আরবি-ফার্সি শব্দ নূতন মেয়াদ পাবে।"-এই দুই উক্তিরঅথবা, বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহার সম্পর্কে 'নব নব সষ্টি' প্রবন্ধ অবলম্বনে আলোচনা করো

  উক্তির কারণপ্রথম “আরবি, ফারসি ভাষা থেকে ব্যাপকভাবে আর নতুন শব্দ বাংলাতে ঢুকবে না।” এই উক্তির পেছনে লেখকের যুক্তি হলো—ভাষায় বিদেশি শব্দের প্রবেশ নির্ভর করে সেই ভাষার সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানচর্চার যোগাযোগের উপর। একসময় আরবি ও ফারসি ভাষার সঙ্গে বাঙালির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল—ধর্ম, শাসনব্যবস্থা, সাহিত্য ও শিক্ষার মাধ্যমে। ফলে বিপুল পরিমাণ আরবি–ফারসি শব্দ বাংলায় প্রবেশ করেছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে তরুণ সমাজের মধ্যে আরবি ও ফারসি ভাষা শেখার আগ্রহ ক্রমশ কমে গেছে। পাশাপাশি আরব–ইরান অঞ্চলে আধুনিক বিজ্ঞান ও জ্ঞানচর্চায় নতুন শব্দ সৃষ্টির যে প্রভাব একসময় ছিল, তা আগের মতো শক্তিশালী নয়। তাই এই ভাষা দুটি থেকে নতুন শব্দ ব্যাপকভাবে বাংলায় ঢোকার সম্ভাবনা ক্ষীণ—এই কথাই লেখক প্রথম উক্তিতে বোঝাতে চেয়েছেন। দ্বিতীয় উক্তির কারণ “অচলিত অনেক আরবি–ফারসি শব্দ নতুন মেয়াদ পাবে।” অন্যদিকে লেখক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে বাংলা ভাষায় আগে থেকে প্রবেশ করা আরবি–ফারসি শব্দ কখনোই অচল হয়ে যাবে না। বাংলা সাহিত্য ও ভাষার ইতিহাসে এই শব্দগুলির শিকড় গভীর। মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল থেকে শুরু করে হুতোম প্যাঁচার নকশা পর্যন্ত বহু গ্...

আংটি পাওয়ার পরে ধীবরের যে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা নিজের ভাষায় লেখো।

 ধীবরের অভিজ্ঞতা : কালিদাসের ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরের জীবনে আংটি পাওয়াকে কেন্দ্র করে নানা অভিজ্ঞতা ঘটে। মাছ ধরার সময় ধীবর একটি বুইমাছ কাটতে গিয়ে তার পেটের ভিতর থেকে রাজার নাম খোদাই করা একটি মণিখচিত আংটি পায়। এই আংটি দেখে নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজার শ্যালক ও দু’জন রক্ষী ধীবরকে চোর সন্দেহে ধরে ফেলে। তারা ধীবরের কথা বিশ্বাস না করে তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে অপমান করে রাজসভায় নিয়ে আসে। রক্ষীরা তাকে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করে নানা কটুক্তি করে এবং চুরির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথাও বলে। ধীবর বারবার জানায় যে সে চুরি করেনি, মাছের পেট থেকেই আংটি পেয়েছে। শুরুতে কেউ তার কথা বিশ্বাস না করলেও রাজশ্যালক বিষয়টি যাচাই করতে রাজা দুষ্মন্তের কাছে যান। পরে ফিরে এসে তিনি জানান যে ধীবর সত্য কথাই বলেছে। এরপর ধীবর মুক্তি পায় এবং রাজা খুশি হয়ে তাকে আংটির সমমূল্যের অর্থ পুরস্কার দেন। যদিও ধীবরের সেদিনের কাজ নষ্ট হয়, তবু রাজপুরস্কারে তার ক্ষতি পূরণ হয়। এভাবে আংটি পাওয়ার ফলে ধীবর অপমান, ভয় ও শেষে আনন্দ—সব ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়।