Posts

Showing posts with the label class ix

"বিদেশি শব্দ নেওয়া ভালো না মন্দ সে প্রশ্ন অবান্তর।"-মন্তব্যটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে লেখক বলেছেন— বিদেশি শব্দ গ্রহণ করা ভালো না মন্দ—এই প্রশ্নটাই অবান্তর। এই মন্তব্যের তাৎপর্য হলো, ভাষা কোনো স্থবির বস্তু নয়; ভাষা একটি জীবন্ত ও পরিবর্তনশীল মাধ্যম। কোনো ভাষা যদি নিজের শব্দভান্ডার থেকে নতুন শব্দ সৃষ্টি করতে পারে, তবে তার স্বয়ংসম্পূর্ণতা প্রমাণিত হয়। কিন্তু তাই বলে বিদেশি শব্দ গ্রহণ করলেই ভাষার ক্ষতি হয়—এমন ধারণা ভুল। বিষয়বস্তুর প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি শব্দ গ্রহণ করলে ভাষা আরও সমৃদ্ধ, অর্থবহ ও প্রকাশক্ষম হয়ে ওঠে। লেখক নিজেই বলেছেন— “রচনার ভাষা তার বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে।” প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা ভাষায় সংস্কৃত, আরবি, ফারসি প্রভৃতি ভাষার শব্দ স্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে। আধুনিক যুগে ইংরেজি ভাষার প্রভাবেও বাংলা ভাষায় বহু ইউরোপীয় শব্দ প্রবেশ করেছে। যেমন—আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা যেভাবে বিদেশি দ্রব্য ব্যবহার করি, তেমনি বিদেশি শব্দও ভাষায় প্রবেশ করাই স্বাভাবিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম—উভয়েই তাঁদের রচনায় অনায়াসে বিদেশি শব্দ ব্যবহার করেছেন। নজরুলের ‘ইনকিলাব’, ‘শহিদ’ কিংবা রবীন্দ্রনাথের আ...

"প্রাচীন যুগের সব ভাষাই তাই”।-কোন্ কোন্ ভাষার উল্লেখ করে লেখক কেন এরূপ বলেছেন? এ প্রসঙ্গে বর্তমান যুগের কোন্ দুটি ভাষা সম্পর্কে তিনি কী বলেছেন? ৩+২

কোন্ কোন্ ভাষার উল্লেখ করে লেখক এ কথা বলেছেন (৩): সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে লেখক সংস্কৃত, হিব্রু, গ্রিক, আবেস্তা এবং আংশিকভাবে প্রাচীন আরবি ভাষার উল্লেখ করেছেন। লেখকের মতে প্রাচীন যুগের ভাষাগুলি নতুন ভাব বা নতুন বস্তুকে প্রকাশ করার জন্য নিজেদের ভাষার ধাতু ও শব্দভাণ্ডার থেকেই নতুন শব্দ সৃষ্টি করত। তারা অন্য ভাষা থেকে খুব কম শব্দ গ্রহণ করত। এই আত্মনির্ভরশীলতার কারণেই লেখক বলেছেন— “প্রাচীন যুগের সব ভাষাই তাই”। বর্তমান যুগের দুটি ভাষা সম্পর্কে লেখকের মত (২): বর্তমান যুগের ভাষা হিসেবে লেখক ইংরেজি ও বাংলা ভাষার কথা বলেছেন। লেখকের মতে এই ভাষাগুলি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, কারণ তারা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ভাষা থেকে প্রচুর শব্দ গ্রহণ করেছে। পাঠান-মোগল যুগে বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দ প্রবেশ করেছে এবং পরে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা থেকেও বহু শব্দ গ্রহণ করেছে। একইভাবে ইংরেজি ভাষাও বিভিন্ন ভাষা থেকে শব্দ নিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছে।

“স্বর্গের দরজাতেও ঠিক ওই কথাই লেখা রয়েছে”—স্বর্গের দরজাতে কী লেখা রয়েছে? বক্তা এমন কথা বলেছেন কেন? (১+৪)

স্বর্গের দরজায় লিখিত কথা (১): স্বর্গের দরজায় লেখা রয়েছে— 👉 “যে অঙ্ক জানে না, সে এখানে প্রবেশ করতে পারবে না।” (প্লেটোর দরজায় লেখা কথার অনুকরণে) বক্তা এমন কথা বলেছেন কেন (৪): নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে কথকের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন অঙ্ক-অন্তপ্রাণ ও অত্যন্ত কঠোর। তাঁর কাছে অঙ্কই ছিল জীবনের একমাত্র ও সর্বোচ্চ মূল্যবান বিষয়। তিনি জটিল অঙ্ক মুহূর্তে সমাধান করতে পারতেন এবং ছাত্রদের কাছ থেকেও একই রকম দক্ষতা প্রত্যাশা করতেন। অঙ্কে সামান্য ভুল হলেই তিনি ভয়ংকর রাগ করতেন ও শারীরিক শাস্তি দিতেন। এমনকি মেধাবী ছাত্ররাও তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকত। এই অঙ্ক-পূজার মানসিকতা থেকেই তিনি অতিশয়োক্তি করে বলতেন—স্বর্গে প্রবেশ করতেও অঙ্ক জানা আবশ্যক। অর্থাৎ তাঁর দৃষ্টিতে অঙ্ক জানাটাই ছিল মানুষের যোগ্যতার চূড়ান্ত মানদণ্ড।

"ছবিটা যা ফুটল, তা খুব উজ্জ্বল নয়"-এখানে কোন্ ছবির কথা বলা হয়েছে? ছবিটা উজ্জ্বল নয় কেন? ১+৪

উদ্দিষ্ট ছবি (১): নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছোটোগল্পে কথক সুকুমার তাঁর স্কুলজীবনের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে যে বাল্যস্মৃতি লিখেছিলেন, সেই স্মৃতিতে মাস্টারমশাইয়ের যে মানসিক ও আচরণগত ছবি ফুটে উঠেছে—সেই ছবির কথাই এখানে বলা হয়েছে। ছবিটা উজ্জ্বল না হওয়ার কারণ (৪): স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন সুকুমার ও তাঁর সহপাঠীদের কাছে মূর্তিমান বিভীষিকা। অঙ্কে তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্য থাকলেও ছাত্রদের মানসিকতা বোঝার ক্ষমতা তাঁর ছিল না। কেউ অঙ্ক না পারলেই তিনি ভয়ানক রেগে গিয়ে নির্মমভাবে মারধর করতেন। ছাত্ররা কাঁদলে তাঁর রাগ আরও বেড়ে যেত, কারণ তাঁর মতে একজন পুরুষমানুষের অঙ্ক না পারা ও কাঁদা ছিল লজ্জার বিষয়। এই কঠোরতা ও নিষ্ঠুর আচরণের ফলে ছাত্রদের মনে মাস্টারমশাইয়ের প্রতি ভয় ও আতঙ্কের ছবি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে সুকুমার যখন লেখক হয়ে সেই বাল্যস্মৃতি লিখেছেন, তখন তাঁর কিশোর মনের আতঙ্ক, ক্ষোভ ও লেখকসুলভ কল্পনা মিলেমিশে মাস্টারমশাইয়ের একটি কঠোর ও বিভীষিকাময় ছবি তুলে ধরেছে। সেই কারণেই ছবিটা উজ্জ্বল না হয়ে অন্ধকার ও ভীতিকর হয়ে উঠেছে।

"সভায় জাঁকিয়ে বক্তৃতা করা গেল।"-বক্তৃতাটির বর্ণনা দাও এবং এতে শ্রোতাদের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?৩+২

 ▶ বক্তৃতাটির বর্ণনা (৩) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে কথক বাংলাদেশের এক প্রান্তবর্তী কলেজের বার্ষিক উৎসবে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হন। যথেষ্ট আপ্যায়ন ও সম্মান লাভ করে তিনি সভায় ‘জাঁকিয়ে’ বক্তৃতা দেন। বক্তৃতার মধ্যে তিনি রবীন্দ্রনাথের একাধিক উদ্ধৃতি ব্যবহার করেন এবং একটি ইংরেজি উদ্ধৃতি কৌশলে বার্নার্ড শ-এর নামে চালিয়ে দেন। শেষপর্বে দেশের তরুণদের জাগরণের কথা বলতে গিয়ে আবেগে টেবিলে জোরে কিল মারেন—এতে টেবিলের উপর রাখা ফুলদানিটি অল্পের জন্য পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। কথক নিজে জানতেন, এটি তাঁর বহুবার ব্যবহৃত একটি ‘সর্বার্থসাধক বক্তৃতা’, যা তিনি নানা অনুষ্ঠানে সামান্য বদলে বারবার বলে থাকেন। ▶ শ্রোতাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া (২) এই বক্তৃতায় শ্রোতারা প্রবলভাবে উচ্ছ্বসিত হয়। হল-ফাটানো করতালিতে সভাঘর মুখরিত হয়ে ওঠে। কলেজের বৃদ্ধ অধ্যক্ষ বক্তৃতাটিকে ‘সারগর্ভ’ ও ‘সুমধুর’ বলে প্রশংসা করেন। কথক বিনয়ের সঙ্গে শরীর ভালো না থাকার কথা বললে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্ররা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়—তাদের ধারণা হয়, শরীর ভালো থাকলে বক্তৃতা আরও কত অসাধারণ হতে পারত।

“আমি সুযোগটা ছাড়তে পারলুম না।” — কোন্ সুযোগের কথা বলা হয়েছে? সুযোগটা তিনি ছাড়তে পারেননি কেন? সেখানে বক্তা কী করেছিলেন?১+২+২

১) উদ্দিষ্ট সুযোগ (১) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে কথক সুকুমারের কাছে বাংলাদেশের এক প্রান্তবর্তী কলেজ থেকে তাদের বার্ষিক উৎসবে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ আসে। এই আমন্ত্রণই এখানে উল্লিখিত ‘সুযোগ’। ২) সুযোগ ছাড়তে না পারার কারণ (২) কথক এই সুযোগ ছাড়তে পারেননি, কারণ— এই উপলক্ষ্যে বিনা খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া যেত। কলকাতা থেকে বাইরে গেলে বক্তাদের অত্যন্ত সম্মান ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কথক কৌতুক করে বলেন— “এখানকার চড়ুই পাখিও সেখানে রাজহংসের সম্মান পায়।” অর্থাৎ কলকাতা থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, ততই সাধারণ মানুষও অসাধারণ হয়ে ওঠে। ৩) সেখানে বক্তার কাজ (২) সভায় কথক অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ বক্তৃতা করেন। রবীন্দ্রনাথের লেখা থেকে বহু উদ্ধৃতি দেন। একটি ইংরেজি উক্তি চালিয়ে দেন বার্নার্ড শ’-এর নামে। শেষে দেশের তরুণদের জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে টেবিলে জোরে কিল মেরে বক্তৃতা শেষ করেন। এর ফলে সভায় হল-ফাটানো হাততালি পড়ে এবং বৃদ্ধ অধ্যক্ষও তাঁর প্রশংসা করেন।

"এ অপরাধ আমি বইব কী করে, এ লজ্জা আমি কোথায় রাখব।"-অপরাধবোধ এবং আত্মগ্লানি দূর হয়ে কীভাবে বক্তার আত্মশুদ্ধি ঘটল তা সংক্ষেপে লেখো।

শৈশবে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কঠোর শাসন ও তীব্র বকাঝকার ফলে কথকের মনে তাঁর প্রতি ভয় ও ক্ষোভ জন্মায়। সেই ক্ষোভ থেকেই পরে একটি পত্রিকায় লেখা বাল্যস্মৃতিতে তিনি মাস্টারমশাইকে কঠোর ও ব্যর্থ শিক্ষক হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু বহুদিন পরে বাংলাদেশের এক প্রান্তবর্তী কলেজে বক্তৃতা দিতে গিয়ে কথক যখন সেই মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে পুনরায় সাক্ষাৎ করেন, তখন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে যায়। মাস্টারমশাই শুধু বক্তৃতার প্রশংসাই করেন না, বরং সেই জীর্ণ পত্রিকাটি বের করে গর্বের সঙ্গে বলেন—ছাত্র তাঁকে অমর করে দিয়েছে। এই উদারতা, ক্ষমাশীলতা ও স্নেহ কথকের মনে তীব্র লজ্জাবোধ ও আত্মগ্লানির জন্ম দেয়। মাস্টারমশাইয়ের মহান হৃদয়ের সামনে নত হয়ে কথক নিজের ভুল উপলব্ধি করেন। এই অনুশোচনা ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই কথকের আত্মশুদ্ধি ঘটে।

"আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে"—বক্তা কে? উক্তিটির আলোকে বক্তার মানসিকতা আলোচনা করো।১+৪

বক্তা (১): নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছোটোগল্পে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন কথক সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই। বক্তার মানসিকতার স্বরূপ (৪): কর্মজীবনে মাস্টারমশাই ছিলেন অত্যন্ত কড়া ও ভীতিপ্রদ শিক্ষক। অঙ্ক না পারলে তিনি ছাত্রদের প্রচণ্ড মারধর করতেন। ফলে ছাত্রদের কাছে তিনি ছিলেন ভয়ংকর ও যমসদৃশ এক ব্যক্তি। সুকুমারও তাঁর অঙ্কের ছাত্র ছিল এবং সেই অত্যাচারের স্মৃতি তার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। পরবর্তীকালে সুকুমার লেখক হয়ে নিজের বাল্যস্মৃতিতে মাস্টারমশাইয়ের সেই নিষ্ঠুর আচরণের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন—ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে কোনো বিষয় শেখানো যায় না। ঘটনাচক্রে মাস্টারমশাই সেই লেখা পড়লেও তিনি একটুও রেগে যাননি। বরং ছাত্রের সমালোচনাকে তিনি সন্তানের অধিকার হিসেবেই গ্রহণ করেন। বহু বছর পরে একজন ছাত্র তাঁর কথা মনে করে গল্প লিখেছে—এই বিষয়টিই মাস্টারমশাইয়ের কাছে হয়ে ওঠে গভীর আনন্দ ও গর্বের কারণ। ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখে তাঁর মনে হয়, ছাত্র তাঁকে অমর করে দিয়েছে। এতে বোঝা যায়, তিনি প্রকৃতপক্ষে ছিলেন সরল, উদার ও ছাত্রস্নেহী মানুষ। তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে তাঁর উদার মানসিকতা ও আত্মসমালোচনা গ্রহণের ক্ষমতার...

শকুন্তলার সখীর নাম কি?

 শকুন্তলার সখীর নাম প্রিয়ংবদা

"আর সে কথা যে আমরা আপনাদের বললাম তা ফুর্তির জন্য নয়, আপনাদের কল্যাণের জন্য।"-বক্তা কে? বক্তা কখন এ কথা বলেছে? তার এ কথা বলার কারণ কী?

বক্তার পরিচয় (১): লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন ইলিয়াস নিজে। বক্তব্যের সময় (২): ইলিয়াস এই কথাটি বলেন তখন, যখন তিনি ও তাঁর স্ত্রী নিঃস্ব অবস্থায় মহম্মদ শা-র বাড়িতে কাজ করছিলেন এবং সেখানে উপস্থিত অতিথিরা তাঁদের আগের ধনী জীবনের সঙ্গে বর্তমান দারিদ্র্যপূর্ণ জীবনের তুলনা নিয়ে বিস্ময় ও হাসি প্রকাশ করছিলেন। বক্তব্যের কারণ (২): ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি অতিথিদের জানান যে ধনী জীবনে নয়, বরং বর্তমানের নিঃস্ব জীবনেই তাঁরা প্রকৃত সুখ পেয়েছেন। অতিথিরা এই কথা বিশ্বাস না করে হাসলে ইলিয়াস তাদের বোঝাতে চান যে তিনি মজা করে নয়, সকলের কল্যাণের জন্যই এই সত্য বলছেন। তাঁর মতে, বিষয়-সম্পত্তি মানুষকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে, কিন্তু ত্যাগ ও সরল জীবনই প্রকৃত সুখ ও মানবকল্যাণের পথ। এই জীবনসত্যই সকলকে উপলব্ধি করানোর জন্য তিনি উক্ত মন্তব্যটি করেন।

“সুখী জীবন কাকে বলে কোনোদিন বুঝিনি।” — বক্তা কে? এই প্রসঙ্গে সে কী বলেছে?

বক্তার পরিচয় (১): উক্তিটি লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পের চরিত্র ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি-র। বক্তার বক্তব্য / প্রসঙ্গ (৪): এই উক্তির মাধ্যমে শাম-শেমাগি তার অতীত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছে। সে জানায় যে বিপুল ধনসম্পদ ও অগণিত পশুর মালিক হয়েও ইলিয়াস দম্পতির জীবনে প্রকৃত সুখ ছিল না। সারাক্ষণ সম্পত্তি রক্ষা, পশুর দেখভাল, চোর ও হিংস্র জন্তুর ভয়, শীতের রসদ জোগাড়—এই সব দুশ্চিন্তায় তাদের দিন কেটে যেত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অন্তরের কথা বলার সময় ছিল না, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার অবকাশও মিলত না। ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ও মতবিরোধের কারণে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হত। এই অবিরাম মানসিক চাপ, অশান্তি ও পাপবোধের ফলে তারা মানসিক শান্তি লাভ করতে পারেনি। এই কারণেই শাম-শেমাগি উপলব্ধি করে বলে—অর্থ ও সম্পত্তি থাকলেই সুখী জীবন হয় না, আর তাই সে বলে, “সুখী জীবন কাকে বলে কোনোদিন বুঝিনি।”

"ভাগ্য যেন চাকার মতো ঘোরে"—কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে? বক্তার এমন বক্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করো।১+৪

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি (১): উক্তিটি লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে মহম্মদ শা–র বাড়িতে আগত এক অতিথি মহম্মদ শা–কে উদ্দেশ্য করে বললেও, আসলে মন্তব্যটির প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ইলিয়াস। বক্তার এমন বক্তব্যের কারণ (৪): ইলিয়াসের জীবনের উত্থান-পতনের চরম পরিবর্তনই এই মন্তব্যের মূল কারণ। দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের কঠোর পরিশ্রমে ইলিয়াস বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়। তার ছিল দুশো ঘোড়া, দেড়শো গোরু, বারোশো ভেড়া ও বহু মহিষ। চারদিকে তার ধনসম্পত্তি ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। দূরদূরান্ত থেকে অতিথিরা তার বাড়িতে আসত এবং ইলিয়াস উদারভাবে অতিথিসেবা করত। প্রতিবেশীরাও তাকে ঈর্ষা করতে শুরু করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার জীবনে ভয়াবহ পরিবর্তন আসে। ঘোড়া চুরি, দুর্ভিক্ষ, মড়ক, পশুমৃত্যু এবং নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার সম্পদ ক্রমশ নষ্ট হয়ে যায়। ছেলের সঙ্গে বিবাদের ফলে পরিবারেও ভাঙন ধরে। একসময় নিজের পশমের কোট, কম্বল এবং অবশিষ্ট গৃহপালিত পশুগুলিও বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয় সে। শেষ পর্যন্ত ইলিয়াস ও তার স্ত্রী সর্বহারা হয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবনধারণ করতে শুরু করে। এই চরম ভাগ্যপরিবর্তনের প্রেক্ষিতেই মহম্মদ শা–র বাড়িতে আগত অতিথিরা ইলিয়াসের জীবনের উত্...

“ইলিয়াসের অতিথি-বৎসলতার কথা স্মরণ করে তার খুব দুঃখ হলো।”—কার কথা বলা হয়েছে? সে কী করেছিল? ইলিয়াসের জীবনে তার কী প্রভাব পড়েছিল?১+২+২

উদ্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় (১): লিও তলস্তয়ের লেখা ‘ইলিয়াস’ গল্পে উল্লিখিত অংশে ইলিয়াসের প্রতিবেশী মহম্মদ শা-র কথাই বলা হয়েছে। সে কী করেছিল (২): মহম্মদ শা ইলিয়াসের অতিথি-বৎসলতার কথা স্মরণ করে তার দুরবস্থায় গভীর দুঃখ অনুভব করে। সে ইলিয়াস ও তার স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। বিনিময়ে ইলিয়াস গ্রীষ্মকালে তরমুজখেতে কাজ করত এবং শীতকালে গোরু-ঘোড়াদের দেখাশোনা করত। ইলিয়াসের স্ত্রী ঘোটকীগুলোর দুধ দোহন করে কুমিস তৈরি করত। মহম্মদ শা তাদের দুজনেরই খাওয়াপরার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয় এবং প্রয়োজন হলে আরও সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইলিয়াসের জীবনে তার প্রভাব (২): মহম্মদ শা-র উদারতায় ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর জীবন নতুনভাবে বদলে যায়। শুরুতে কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে তারা পরিশ্রমের মধ্যেই শান্তি খুঁজে পায়। এই জীবনে তারা উপলব্ধি করে যে, সুখের আসল ভিত্তি ধন-সম্পদ নয়, বরং পরিশ্রম, পরিতৃপ্তি ও মানসিক শান্তি। দুশ্চিন্তামুক্ত এই সরল জীবনেই তারা প্রকৃত সুখের স্বাদ পায়।

“ইলিয়াস তো ভাগ্যবান পুরুষ;”— কারা, কেন ইলিয়াসকে ভাগ্যবান পুরুষ বলতে চায়? এই উক্তি তুমি সমর্থন কর কি না যুক্তি-সহ লেখো।৩ + ২

ইলিয়াসকে ‘ভাগ্যবান পুরুষ’ বলার কারণ (৩) লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে ইলিয়াসের আশেপাশের লোকজন—বিশেষ করে তার প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা—তাকে ‘ভাগ্যবান পুরুষ’ বলে মন্তব্য করেছিল। বিয়ের কিছুদিন পর তার পিতা মারা গেলে ইলিয়াস খুব বেশি ধনীও ছিল না, আবার দরিদ্রও ছিল না। তখন তার সম্পত্তি বলতে ছিল মাত্র সাতটি ঘোড়া, দুটি গোরু এবং কুড়িটি ভেড়া। কিন্তু ইলিয়াসের সুশৃঙ্খল পরিচালনা, কঠোর পরিশ্রম ও তার স্ত্রীর সহযোগিতায় প্রতি বছর তার সম্পত্তি বাড়তে থাকে। দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সে দুশো ঘোড়া, দেড়শো গোরু-মহিষ ও বারোশো ভেড়ার মালিক হয়। ভাড়াটে মজুর ও মজুরানিরা তার পশুপালনের কাজ করত এবং দুধ, কুমিস, মাখন ও পনির তৈরি করত। এই বিপুল সাফল্য ও সুখ-সমৃদ্ধি দেখে আশেপাশের লোকেরা হিংসায় তাকে ‘ভাগ্যবান পুরুষ’ বলে মন্তব্য করেছিল। উক্তিটির প্রতি আমার মত (২) আমি এই উক্তির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নই। ইলিয়াসের সাফল্য ভাগ্যের জোরে নয়, বরং তার কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও দৃঢ় মানসিকতার ফল। সে নিজের শ্রম ও বুদ্ধির সাহায্যে ধীরে ধীরে উন্নতি করেছে। তাই ইলিয়াসকে শুধু ভাগ্যবান বলা হলে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমকে ছোট করে দেখা হয়। ইলি...

"বৃদ্ধ দম্পতিকে সাহায্য করবার তখন কেউ নেই"-'বৃদ্ধ দম্পতি' বলতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে? তাদের কোন্ পরিস্থিতিতে সাহায্য করার কেউ ছিল না? ১+৪

‘বৃদ্ধ দম্পতি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে (১): লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পে ‘বৃদ্ধ দম্পতি’ বলতে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগিকে বোঝানো হয়েছে। কোন্ পরিস্থিতিতে তাদের সাহায্য করার কেউ ছিল না (৪): দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম ও সুব্যবস্থাপনার ফলে ইলিয়াস একসময় বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠে। তার দুশো ঘোড়া, দেড়শো গোরু-মোষ, বারোশো ভেড়া ও অসংখ্য মজুর ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার দুর্ভাগ্য শুরু হয়। প্রথমে বড়ো ছেলে এক মারামারির ঘটনায় মারা যায়। ছোটো ছেলে ও তার ঝগড়াটে স্ত্রী ইলিয়াসকে অবজ্ঞা করতে শুরু করলে ইলিয়াস তাদের বাড়ি ও কিছু পশু দিয়ে আলাদা করে দেয়। এরপর মড়কে ভেড়া মারা যায়, দুর্ভিক্ষে খড়ের অভাবে গোরু-মোষ মারা পড়ে এবং কিরবিজরা তার ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করে নেয়। সত্তর বছর বয়সে ইলিয়াস বাধ্য হয়ে নিজের পশমের কোট, কম্বল, তাঁবু, ঘোড়ার জিন ও অবশিষ্ট পশুগুলি বিক্রি করে দেয়। সেই সময় তার বিতাড়িত পুত্র দূরদেশে ছিল এবং একমাত্র কন্যাও মারা গিয়েছিল। ফলে সর্বস্বান্ত ও চরম অসহায় হয়ে পড়া এই বৃদ্ধ দম্পতিকে সাহায্য করার মতো তখন নিজের কেউ ছিল না।

"কিন্তু ওর মধ্যে বিশেষ করে দেখবার কিছু আছে নাকি?"—কে, কার কথা বলেছে? তাকে কী উত্তর দেওয়া হয়েছিল? এতে বক্তার প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল?১+২+২

বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি (১): লিও তলস্তয়ের রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পে উক্ত কথাটি বলেছেন মহম্মদ শা-র বাড়িতে আগত একজন অতিথি। তিনি দরজার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া বুড়ো মানুষটির—অর্থাৎ ইলিয়াসের—কথা বলেছেন। প্রত্যুত্তর (২): এই প্রশ্নের উত্তরে মহম্মদ শা জানান যে, ওই বুড়ো মানুষটির নাম ইলিয়াস। একসময় সে ঐ অঞ্চলের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিল এবং তার নাম বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তার কিছুই নেই। সে ও তার স্ত্রী এখন মহম্মদ শা-র বাড়িতে মজুরের মতো কাজ করে জীবনযাপন করছে। বক্তার প্রতিক্রিয়া (২): ইলিয়াসের এই দুরবস্থার কথা শুনে অতিথি বিস্মিত হন। তিনি বলেন যে ভাগ্য চাকার মতো ঘোরে—কখনও মানুষ উপরে ওঠে, আবার কখনও নিচে নেমে যায়। এরপর তিনি ইলিয়াস এখন দুঃখী কি না তা জানতে চান এবং তার সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। জীবন সম্পর্কে কিছু জানার আগ্রহও তিনি প্রকাশ করেন।

"নিমিষেকে জোড়ে মেঘ গগন-মণ্ডল।"- 'নিমিষেকে' কথাটির অর্থ কী? গগনমণ্ডলে এর ফলে কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হল? ১+২

‘নিমিষেকে’ কথাটির অর্থ (১): ‘নিমিষেকে’ কথাটির অর্থ হলো মুহূর্তের মধ্যে। গগনমণ্ডলে সৃষ্ট পরিস্থিতি (২): কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে বর্ণিত অনুযায়ী অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যায়। ঈশান কোণে ঘোর অন্ধকারের মধ্যে বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা দেয় এবং মেঘের গর্জনে আকাশ কেঁপে ওঠে। ফলে চারিদিক ভয়াবহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাসে অন্ধকারময় হয়ে ওঠে।

"চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল।।"-মুশলধারে জলবর্ষণের কারণ কী? ১+২

জলবর্ষণের কারণ: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে হঠাৎ কলিঙ্গদেশের আকাশ চারদিক থেকে ঘন কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ঈশান কোণে মেঘের ঘন সঞ্চয়ে চারদিকে অন্ধকার নেমে আসে। প্রবল মেঘগর্জন ও ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানিতে পরিবেশ ভীতিকর হয়ে ওঠে। এই ঘন মেঘের সঞ্চয়ের ফলেই চারিদিকে মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়।

কারা পরস্পরের বন্ধু হয়েছে? এমন বন্ধুত্বের কারণ কী? অথবা, "তুমি আমার একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু হলে।"-কোন ঘটনার মাধ্যমে এই বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়েছিল?কারা পরস্পরের বন্ধু হয়েছে ? ১+৪

‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে রাজশ্যালক ও ধীবর পরস্পরের বন্ধু হয়েছে। (১ নম্বর) এমন বন্ধুত্বের কারণ কী? / কোন ঘটনার মাধ্যমে এই বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়েছিল? (৪ নম্বর) প্রথমে রাজশ্যালক ধীবরের কাছে রাজার নাম খোদাই করা আংটি দেখে তাকে চোর বলে সন্দেহ করেছিলেন। ধীবরের পেশা নিয়েও তিনি বিদ্রূপ করেছিলেন এবং তাকে অবিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু পরে মহারাজ যখন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে ধীবর আংটি পাওয়ার বিষয়ে যা বলেছে তা সম্পূর্ণ সত্য, তখন রাজশ্যালকের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে। রাজা ধীবরের সততায় সন্তুষ্ট হয়ে আংটির সমমূল্যের অর্থ পুরস্কার হিসেবে রাজশ্যালকের হাত দিয়েই ধীবরকে প্রদান করেন। এই ঘটনায় রাজশ্যালক বুঝতে পারেন যে ধীবর একজন সৎ ও নির্দোষ ব্যক্তি এবং তিনি নিজেই ভুল করেছিলেন। নিজের ভুল উপলব্ধি করে ও ধীবরের সততায় মুগ্ধ হয়ে রাজশ্যালক ধীবরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন। এই ঘটনাগুলির মাধ্যমেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়।

"মহারাজ এ সংবাদ শুনে খুব খুশি হবেন।"-কে, কাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছিল? সংবাদটা কী ছিল? মহারাজের খুশির কারণ কী? ১+২+২

বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি (১) কালিদাসের ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে দুই রক্ষী রাজশ্যালককে উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেছিল— “মহারাজ এ সংবাদ শুনে খুব খুশি হবেন।” উল্লিখিত সংবাদ (২) উল্লিখিত সংবাদটি ছিল— ধীবরের কাছ থেকে রাজার নাম খোদাই করা রত্নখচিত আংটিটি উদ্ধার করা হয়েছে। ধীবর দাবি করেছিল যে সে মাছের পেট থেকে আংটিটি পেয়েছে, কিন্তু রক্ষীরা সে কথা বিশ্বাস না করে তাকে চোর বলে মনে করে এবং আংটি উদ্ধারের বিষয়টি মহারাজকে জানানোর জন্য রাজশ্যালককে পাঠায়। মহারাজের খুশির কারণ (২) রক্ষীরা মনে করেছিল, মূল্যবান আংটি ফিরে পাওয়া, এবং চোর ধরা পড়া—এই দুই কারণে মহারাজ খুশি হবেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মহারাজ খুশি হয়েছিলেন হারানো আংটি ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে প্রিয় শকুন্তলার স্মৃতি জেগে ওঠায়। ধীবরকে আটক করা মহারাজের খুশির কারণ ছিল না; বরং ধীবরের মাধ্যমে আংটি ফিরে পাওয়ায় তিনি ধীবরকে পুরস্কৃত করেছিলেন।