Posts

Showing posts with the label দাম

“স্বর্গের দরজাতেও ঠিক ওই কথাই লেখা রয়েছে”—স্বর্গের দরজাতে কী লেখা রয়েছে? বক্তা এমন কথা বলেছেন কেন? (১+৪)

স্বর্গের দরজায় লিখিত কথা (১): স্বর্গের দরজায় লেখা রয়েছে— 👉 “যে অঙ্ক জানে না, সে এখানে প্রবেশ করতে পারবে না।” (প্লেটোর দরজায় লেখা কথার অনুকরণে) বক্তা এমন কথা বলেছেন কেন (৪): নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে কথকের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন অঙ্ক-অন্তপ্রাণ ও অত্যন্ত কঠোর। তাঁর কাছে অঙ্কই ছিল জীবনের একমাত্র ও সর্বোচ্চ মূল্যবান বিষয়। তিনি জটিল অঙ্ক মুহূর্তে সমাধান করতে পারতেন এবং ছাত্রদের কাছ থেকেও একই রকম দক্ষতা প্রত্যাশা করতেন। অঙ্কে সামান্য ভুল হলেই তিনি ভয়ংকর রাগ করতেন ও শারীরিক শাস্তি দিতেন। এমনকি মেধাবী ছাত্ররাও তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকত। এই অঙ্ক-পূজার মানসিকতা থেকেই তিনি অতিশয়োক্তি করে বলতেন—স্বর্গে প্রবেশ করতেও অঙ্ক জানা আবশ্যক। অর্থাৎ তাঁর দৃষ্টিতে অঙ্ক জানাটাই ছিল মানুষের যোগ্যতার চূড়ান্ত মানদণ্ড।

"ছবিটা যা ফুটল, তা খুব উজ্জ্বল নয়"-এখানে কোন্ ছবির কথা বলা হয়েছে? ছবিটা উজ্জ্বল নয় কেন? ১+৪

উদ্দিষ্ট ছবি (১): নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছোটোগল্পে কথক সুকুমার তাঁর স্কুলজীবনের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে যে বাল্যস্মৃতি লিখেছিলেন, সেই স্মৃতিতে মাস্টারমশাইয়ের যে মানসিক ও আচরণগত ছবি ফুটে উঠেছে—সেই ছবির কথাই এখানে বলা হয়েছে। ছবিটা উজ্জ্বল না হওয়ার কারণ (৪): স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন সুকুমার ও তাঁর সহপাঠীদের কাছে মূর্তিমান বিভীষিকা। অঙ্কে তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্য থাকলেও ছাত্রদের মানসিকতা বোঝার ক্ষমতা তাঁর ছিল না। কেউ অঙ্ক না পারলেই তিনি ভয়ানক রেগে গিয়ে নির্মমভাবে মারধর করতেন। ছাত্ররা কাঁদলে তাঁর রাগ আরও বেড়ে যেত, কারণ তাঁর মতে একজন পুরুষমানুষের অঙ্ক না পারা ও কাঁদা ছিল লজ্জার বিষয়। এই কঠোরতা ও নিষ্ঠুর আচরণের ফলে ছাত্রদের মনে মাস্টারমশাইয়ের প্রতি ভয় ও আতঙ্কের ছবি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে সুকুমার যখন লেখক হয়ে সেই বাল্যস্মৃতি লিখেছেন, তখন তাঁর কিশোর মনের আতঙ্ক, ক্ষোভ ও লেখকসুলভ কল্পনা মিলেমিশে মাস্টারমশাইয়ের একটি কঠোর ও বিভীষিকাময় ছবি তুলে ধরেছে। সেই কারণেই ছবিটা উজ্জ্বল না হয়ে অন্ধকার ও ভীতিকর হয়ে উঠেছে।

“আমি সুযোগটা ছাড়তে পারলুম না।” — কোন্ সুযোগের কথা বলা হয়েছে? সুযোগটা তিনি ছাড়তে পারেননি কেন? সেখানে বক্তা কী করেছিলেন?১+২+২

১) উদ্দিষ্ট সুযোগ (১) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে কথক সুকুমারের কাছে বাংলাদেশের এক প্রান্তবর্তী কলেজ থেকে তাদের বার্ষিক উৎসবে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ আসে। এই আমন্ত্রণই এখানে উল্লিখিত ‘সুযোগ’। ২) সুযোগ ছাড়তে না পারার কারণ (২) কথক এই সুযোগ ছাড়তে পারেননি, কারণ— এই উপলক্ষ্যে বিনা খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া যেত। কলকাতা থেকে বাইরে গেলে বক্তাদের অত্যন্ত সম্মান ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কথক কৌতুক করে বলেন— “এখানকার চড়ুই পাখিও সেখানে রাজহংসের সম্মান পায়।” অর্থাৎ কলকাতা থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, ততই সাধারণ মানুষও অসাধারণ হয়ে ওঠে। ৩) সেখানে বক্তার কাজ (২) সভায় কথক অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ বক্তৃতা করেন। রবীন্দ্রনাথের লেখা থেকে বহু উদ্ধৃতি দেন। একটি ইংরেজি উক্তি চালিয়ে দেন বার্নার্ড শ’-এর নামে। শেষে দেশের তরুণদের জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে টেবিলে জোরে কিল মেরে বক্তৃতা শেষ করেন। এর ফলে সভায় হল-ফাটানো হাততালি পড়ে এবং বৃদ্ধ অধ্যক্ষও তাঁর প্রশংসা করেন।

"এ অপরাধ আমি বইব কী করে, এ লজ্জা আমি কোথায় রাখব।"-অপরাধবোধ এবং আত্মগ্লানি দূর হয়ে কীভাবে বক্তার আত্মশুদ্ধি ঘটল তা সংক্ষেপে লেখো।

শৈশবে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কঠোর শাসন ও তীব্র বকাঝকার ফলে কথকের মনে তাঁর প্রতি ভয় ও ক্ষোভ জন্মায়। সেই ক্ষোভ থেকেই পরে একটি পত্রিকায় লেখা বাল্যস্মৃতিতে তিনি মাস্টারমশাইকে কঠোর ও ব্যর্থ শিক্ষক হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু বহুদিন পরে বাংলাদেশের এক প্রান্তবর্তী কলেজে বক্তৃতা দিতে গিয়ে কথক যখন সেই মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে পুনরায় সাক্ষাৎ করেন, তখন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে যায়। মাস্টারমশাই শুধু বক্তৃতার প্রশংসাই করেন না, বরং সেই জীর্ণ পত্রিকাটি বের করে গর্বের সঙ্গে বলেন—ছাত্র তাঁকে অমর করে দিয়েছে। এই উদারতা, ক্ষমাশীলতা ও স্নেহ কথকের মনে তীব্র লজ্জাবোধ ও আত্মগ্লানির জন্ম দেয়। মাস্টারমশাইয়ের মহান হৃদয়ের সামনে নত হয়ে কথক নিজের ভুল উপলব্ধি করেন। এই অনুশোচনা ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই কথকের আত্মশুদ্ধি ঘটে।

"আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে"—বক্তা কে? উক্তিটির আলোকে বক্তার মানসিকতা আলোচনা করো।১+৪

বক্তা (১): নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছোটোগল্পে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন কথক সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই। বক্তার মানসিকতার স্বরূপ (৪): কর্মজীবনে মাস্টারমশাই ছিলেন অত্যন্ত কড়া ও ভীতিপ্রদ শিক্ষক। অঙ্ক না পারলে তিনি ছাত্রদের প্রচণ্ড মারধর করতেন। ফলে ছাত্রদের কাছে তিনি ছিলেন ভয়ংকর ও যমসদৃশ এক ব্যক্তি। সুকুমারও তাঁর অঙ্কের ছাত্র ছিল এবং সেই অত্যাচারের স্মৃতি তার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। পরবর্তীকালে সুকুমার লেখক হয়ে নিজের বাল্যস্মৃতিতে মাস্টারমশাইয়ের সেই নিষ্ঠুর আচরণের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন—ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে কোনো বিষয় শেখানো যায় না। ঘটনাচক্রে মাস্টারমশাই সেই লেখা পড়লেও তিনি একটুও রেগে যাননি। বরং ছাত্রের সমালোচনাকে তিনি সন্তানের অধিকার হিসেবেই গ্রহণ করেন। বহু বছর পরে একজন ছাত্র তাঁর কথা মনে করে গল্প লিখেছে—এই বিষয়টিই মাস্টারমশাইয়ের কাছে হয়ে ওঠে গভীর আনন্দ ও গর্বের কারণ। ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখে তাঁর মনে হয়, ছাত্র তাঁকে অমর করে দিয়েছে। এতে বোঝা যায়, তিনি প্রকৃতপক্ষে ছিলেন সরল, উদার ও ছাত্রস্নেহী মানুষ। তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে তাঁর উদার মানসিকতা ও আত্মসমালোচনা গ্রহণের ক্ষমতার...