▶ বক্তৃতাটির বর্ণনা (৩) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে কথক বাংলাদেশের এক প্রান্তবর্তী কলেজের বার্ষিক উৎসবে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হন। যথেষ্ট আপ্যায়ন ও সম্মান লাভ করে তিনি সভায় ‘জাঁকিয়ে’ বক্তৃতা দেন। বক্তৃতার মধ্যে তিনি রবীন্দ্রনাথের একাধিক উদ্ধৃতি ব্যবহার করেন এবং একটি ইংরেজি উদ্ধৃতি কৌশলে বার্নার্ড শ-এর নামে চালিয়ে দেন। শেষপর্বে দেশের তরুণদের জাগরণের কথা বলতে গিয়ে আবেগে টেবিলে জোরে কিল মারেন—এতে টেবিলের উপর রাখা ফুলদানিটি অল্পের জন্য পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। কথক নিজে জানতেন, এটি তাঁর বহুবার ব্যবহৃত একটি ‘সর্বার্থসাধক বক্তৃতা’, যা তিনি নানা অনুষ্ঠানে সামান্য বদলে বারবার বলে থাকেন। ▶ শ্রোতাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া (২) এই বক্তৃতায় শ্রোতারা প্রবলভাবে উচ্ছ্বসিত হয়। হল-ফাটানো করতালিতে সভাঘর মুখরিত হয়ে ওঠে। কলেজের বৃদ্ধ অধ্যক্ষ বক্তৃতাটিকে ‘সারগর্ভ’ ও ‘সুমধুর’ বলে প্রশংসা করেন। কথক বিনয়ের সঙ্গে শরীর ভালো না থাকার কথা বললে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্ররা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়—তাদের ধারণা হয়, শরীর ভালো থাকলে বক্তৃতা আরও কত অসাধারণ হতে পারত।