ইলিয়াসকে ‘ভাগ্যবান পুরুষ’ বলার কারণ (৩)
লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে ইলিয়াসের আশেপাশের লোকজন—বিশেষ করে তার প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা—তাকে ‘ভাগ্যবান পুরুষ’ বলে মন্তব্য করেছিল। বিয়ের কিছুদিন পর তার পিতা মারা গেলে ইলিয়াস খুব বেশি ধনীও ছিল না, আবার দরিদ্রও ছিল না। তখন তার সম্পত্তি বলতে ছিল মাত্র সাতটি ঘোড়া, দুটি গোরু এবং কুড়িটি ভেড়া।
কিন্তু ইলিয়াসের সুশৃঙ্খল পরিচালনা, কঠোর পরিশ্রম ও তার স্ত্রীর সহযোগিতায় প্রতি বছর তার সম্পত্তি বাড়তে থাকে। দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সে দুশো ঘোড়া, দেড়শো গোরু-মহিষ ও বারোশো ভেড়ার মালিক হয়। ভাড়াটে মজুর ও মজুরানিরা তার পশুপালনের কাজ করত এবং দুধ, কুমিস, মাখন ও পনির তৈরি করত। এই বিপুল সাফল্য ও সুখ-সমৃদ্ধি দেখে আশেপাশের লোকেরা হিংসায় তাকে ‘ভাগ্যবান পুরুষ’ বলে মন্তব্য করেছিল।
উক্তিটির প্রতি আমার মত (২)
আমি এই উক্তির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নই। ইলিয়াসের সাফল্য ভাগ্যের জোরে নয়, বরং তার কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও দৃঢ় মানসিকতার ফল। সে নিজের শ্রম ও বুদ্ধির সাহায্যে ধীরে ধীরে উন্নতি করেছে। তাই ইলিয়াসকে শুধু ভাগ্যবান বলা হলে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমকে ছোট করে দেখা হয়। ইলিয়াস প্রমাণ করে যে চেষ্টা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে মানুষ নিশ্চিতভাবেই সফল হতে পারে।
Comments
Post a Comment