আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে লেখক বলেছেন— বিদেশি শব্দ গ্রহণ করা ভালো না মন্দ—এই প্রশ্নটাই অবান্তর।
এই মন্তব্যের তাৎপর্য হলো, ভাষা কোনো স্থবির বস্তু নয়; ভাষা একটি জীবন্ত ও পরিবর্তনশীল মাধ্যম। কোনো ভাষা যদি নিজের শব্দভান্ডার থেকে নতুন শব্দ সৃষ্টি করতে পারে, তবে তার স্বয়ংসম্পূর্ণতা প্রমাণিত হয়। কিন্তু তাই বলে বিদেশি শব্দ গ্রহণ করলেই ভাষার ক্ষতি হয়—এমন ধারণা ভুল। বিষয়বস্তুর প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি শব্দ গ্রহণ করলে ভাষা আরও সমৃদ্ধ, অর্থবহ ও প্রকাশক্ষম হয়ে ওঠে।
লেখক নিজেই বলেছেন— “রচনার ভাষা তার বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে।” প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা ভাষায় সংস্কৃত, আরবি, ফারসি প্রভৃতি ভাষার শব্দ স্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে। আধুনিক যুগে ইংরেজি ভাষার প্রভাবেও বাংলা ভাষায় বহু ইউরোপীয় শব্দ প্রবেশ করেছে। যেমন—আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা যেভাবে বিদেশি দ্রব্য ব্যবহার করি, তেমনি বিদেশি শব্দও ভাষায় প্রবেশ করাই স্বাভাবিক।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম—উভয়েই তাঁদের রচনায় অনায়াসে বিদেশি শব্দ ব্যবহার করেছেন। নজরুলের ‘ইনকিলাব’, ‘শহিদ’ কিংবা রবীন্দ্রনাথের আরবি-ফারসি মিশ্রিত শব্দপ্রয়োগ বাংলা ভাষাকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
অতএব, লেখকের মতে বিদেশি শব্দ নেওয়া ভালো না মন্দ—এই বিতর্ক অর্থহীন। যদি বিদেশি শব্দ বিষয়বস্তুর যথাযথ প্রকাশ ঘটাতে পারে, তবে তা ভাষাকে দরিদ্র নয়, বরং সমৃদ্ধই করে।
Comments
Post a Comment