বক্তা (১):
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছোটোগল্পে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন কথক সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই।
বক্তার মানসিকতার স্বরূপ (৪):
কর্মজীবনে মাস্টারমশাই ছিলেন অত্যন্ত কড়া ও ভীতিপ্রদ শিক্ষক। অঙ্ক না পারলে তিনি ছাত্রদের প্রচণ্ড মারধর করতেন। ফলে ছাত্রদের কাছে তিনি ছিলেন ভয়ংকর ও যমসদৃশ এক ব্যক্তি। সুকুমারও তাঁর অঙ্কের ছাত্র ছিল এবং সেই অত্যাচারের স্মৃতি তার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
পরবর্তীকালে সুকুমার লেখক হয়ে নিজের বাল্যস্মৃতিতে মাস্টারমশাইয়ের সেই নিষ্ঠুর আচরণের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন—ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে কোনো বিষয় শেখানো যায় না। ঘটনাচক্রে মাস্টারমশাই সেই লেখা পড়লেও তিনি একটুও রেগে যাননি। বরং ছাত্রের সমালোচনাকে তিনি সন্তানের অধিকার হিসেবেই গ্রহণ করেন।
বহু বছর পরে একজন ছাত্র তাঁর কথা মনে করে গল্প লিখেছে—এই বিষয়টিই মাস্টারমশাইয়ের কাছে হয়ে ওঠে গভীর আনন্দ ও গর্বের কারণ। ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখে তাঁর মনে হয়, ছাত্র তাঁকে অমর করে দিয়েছে। এতে বোঝা যায়, তিনি প্রকৃতপক্ষে ছিলেন সরল, উদার ও ছাত্রস্নেহী মানুষ। তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে তাঁর উদার মানসিকতা ও আত্মসমালোচনা গ্রহণের ক্ষমতারই প্রকাশ ঘটেছে।
Comments
Post a Comment